রমজান মাসের বিভিন্ন দোয়া
আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে আবেদন করুক। সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে মুখাপেক্ষী মনে করুক। এই চাওয়াটাই হলো দোয়া। আল্লাহ তাআলা দোয়ায় সাড়া দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোরআনে আছে, ‘আমার বান্দা যখন আমার বিষয়ে আপনার কাছে জানতে চায়, (তুমি বলো) আমি তো তোমাদের কাছেই আছি। কোনো প্রার্থী আমার কাছে যখনই কিছু চায়, তখনই আমি সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো আসল (প্রকৃত) ইবাদত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৭৯)।
সালমান (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবানের শেষ দিন রমজানের আগমনী খুতবায় বলেছেন, ‘তোমরা এই মাসে (রমজাম মাসে) চারটি কাজ বেশি বেশি করতে থাকো। (এর মধ্যে) দুটি কাজ এমন, যেগুলো দিয়ে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করবে। আর দুটি কাজ এমন, যা না করে তোমাদের কোনো উপায় নেই। প্রথম দুটি কাজ হলো, অধিক পরিমাণে কালিমায়ে তাইয়িবা পড়বে এবং ইসতেগফার করবে। যে কাজ দুটি তোমাদের না করে কোনো উপায় নেই তা হলো, আল্লাহ তাআলার কাছে জান্নাত চাইবে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইবে।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, ১৮৮৭)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রমজানে চারটি কাজ বেশি বেশি করতে হবে—এক. অধিক পরিমাণে কালিমায়ে তাইয়িবা বা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা ‘ পড়া। দুই. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা ইসতেগফার করা। যেমন—আসতাগফিরুল্লাহ পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে এই ইসতেগফারটি পড়বে তাকে মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করে (অর্থাৎ ভয়াবহ কোনো গোনাহ করলেও তাকে মাফ করে দেওয়া হবে)। ইস্তেগফারটি হলো—
أَسْتَغْفِرُ الله الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আসতাগ ফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি চিরস্থায়ী চিরঞ্জীব, আমি তাঁর কাছেই তওবা করছি।
আল্লাহ তাআলার কাছে জান্নাত চাইতে থাকা। এরকম বলা—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল জান্নাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ আমি আপনার কতাছে জান্নাত চাই।
আল্লাহ তাআলার কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। এ রকম বলা—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনান্নার।
অর্থ: হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই।
উভয়টি একসঙ্গে এভাবে বলা যায়—উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউজু বিকা মিনান্নার।
রোজার প্রচলিত আরবি নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক, ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি, ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
ইফতারের দোয়া
اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার উদ্দেশে রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।
ইফতার সামনে নিয়ে পড়ার দোয়া—
يَا وَا سِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْلِىْ
উচ্চারণ: ইয়া ওয়া সিআল মাগফিরাতি, ইগফিরলি।
অর্থ: হে মহান ক্ষমা দানকারী, আমাকে ক্ষমা করুন।
ইফতারের পর দোয়া
ذَهَبَ الظَمَأُ، وَابْتَلَّتِ العُرُوْقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ
উচ্চারণ: জাহাবাজ জামায়ু, ওয়াব তালাতিল উরুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো, যদি আল্লাহ চান, পুরস্কারও নির্ধারিত হয়েছে।
লাইলাতুল কদরের দোয়া
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।
চাঁপাইবার্তা/এপি।।