লোকসানে ব্যবসায়ীরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছেন না 'বড়ি'র কুমড়া
ইনকিলাব- বাঙালির ঘরে ঘরে শীত-বর্ষায় রান্নার স্বাদ বাড়ায় যে উপাদান, তার অন্যতম হলো কুমড়া বড়ি। ডাল, শাক কিংবা সবজির তরকারিতে একমুঠো বড়ি মানেই আলাদা ঘ্রাণ ও স্বাদ। সেই ঐতিহ্যবাহী কুমড়া বড়ির মূল উপকরণ কুমড়াই এখন ব্যবসায়ীদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি কুমড়া স্তূপ করে রাখা। কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে।
বগুড়া থেকে বড়ি তৈরির উপযোগী কুমড়া নিয়ে এসেছেন রাহুল শাহা। তিনি বলেন, গত বছরের মতো এবারও প্রায় ২০ টন কুমড়া এনেছি। কিন্তু বাজারে সরবরাহ বেশি, চাহিদা কম। গত বছর যে কুমড়া তিন থেকে চারশ টাকা পিস বিক্রি করেছি, এখন ১০০ থেকে ২০০ টাকায়ও বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তবুও পরিবহন ব্যয়, আড়ৎ খরচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে কেনা দামই উঠছে না। “ঐতিহ্যের এই পণ্য নিয়ে আসি লাভের আশায়, কিন্তু এবার লোকসানই সঙ্গী,” বলেন তিনি।
নওগাঁ থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলামও একই সুরে কথা বলেন। “উৎপাদন খরচ আর পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে যে দাম পড়ে, বর্তমান বাজারে তা উঠছে না। অর্ধেকের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিন দিন ধরে বসে আছি, তেমন বেচাকেনা নেই,” জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ বছর উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে কুমড়ার সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি প্রভাব ও ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি আরও কমে গেছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে কুমড়া ছেড়ে দিচ্ছেন।
একসময় গ্রামবাংলার উঠোনে কুমড়া শুকিয়ে বড়ি বানানোর যে চিত্র ছিল নিত্যদিনের, সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এখনও বড়ি তৈরির জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে কুমড়া আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় ঐতিহ্যের এই কৃষিপণ্য এখন ব্যবসায়ীদের জন্য হয়ে উঠেছে আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। ঐতিহ্য রক্ষা ও কৃষক ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।